ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সামরিক জোটের প্রস্তাব পাকিস্তান মুসলিম লীগের যুবনেতার
ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের একসময়ের ঘনিষ্ঠ অধ্যায় এখন ধীরে ধীরে ধূসর স্মৃতিতে পরিণত হচ্ছে। যে দিল্লির ওপর ঢাকা দীর্ঘদিন অকৃত্রিম আস্থা রেখেছিল, সেই দিল্লির সঙ্গেই এখন অবিশ্বাস ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ছে। দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার যে চাবিকাঠি দুই দেশের হাতে ছিল, তা এখন পারস্পরিক সন্দেহ ও চাপের রাজনীতিতে আটকে গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগের এক যুবনেতা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভারত যদি বাংলাদেশের ওপর কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালায়, তবে পাকিস্তান চুপ থাকবে না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-র বরাতে জানা যায়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ-এর দল পাকিস্তান মুসলিম লীগের যুব শাখার নেতা কামরান সাঈদ উসমানী বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে হামলা হলে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তার জবাব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের সাম্প্রতিক আচরণ উপমহাদেশের জন্য উদ্বেগজনক। দীর্ঘদিন ধরে ভারতের শাসকগোষ্ঠী অখণ্ড ভারতের ধারণা প্রচার করছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশকে ভারতের মানচিত্রের অংশ হিসেবে দেখানোর প্রবণতা বাড়ছে। এই ধরনের আদর্শিক আগ্রাসন পাকিস্তান কখনোই মেনে নেবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।
কামরান সাঈদ উসমানী বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানে বা কুদৃষ্টিতে তাকায়, তাহলে মনে রাখতে হবে পাকিস্তানের জনগণ, সশস্ত্র বাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের থেকে খুব দূরে নয়। তিনি অতীতের যুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, প্রয়োজন হলে পাকিস্তান আবারও ভারতকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলতে সক্ষম।
আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট গঠনের প্রস্তাব দেন। তার মতে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের আচরণ এবং সীমান্ত পরিস্থিতি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই অবস্থায় দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি।
তিনি প্রস্তাব দেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ একে অপরের ভূখণ্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দিতে পারে। এতে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী হবে এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের এই বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, কূটনৈতিক ও সামরিক চাপে বাংলাদেশ একা নয়। প্রয়োজনে পাকিস্তান বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত রয়েছে।

