মূলধন বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে সপ্তাহ শেষ করেছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ১০০৬ কোটি টাকা, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ২৯৩ কোটি টাকার কিছু বেশি। পরদিন লেনদেন বাড়তে বাড়তে প্রায় ৪০০ কোটি টাকায় পৌঁছে যায়। তৃতীয় কার্যদিবসে লেনদেন আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৪০৭ কোটি টাকায়। তবে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে লেনদেনের গতি কিছুটা কমে নেমে আসে ৩৩৩ কোটি টাকায়।
লেনদেনের পাশাপাশি সপ্তাহজুড়ে প্রধান সূচকেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ডিএসইএক্স সূচক ৪৮৫৩.৯০ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তাহ শুরু করে এবং শেষ কার্যদিবসে দাঁড়ায় ৪৮৮৩.৫৭ পয়েন্টে।
এদিকে দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় আবারও আধিপত্য দেখা গেছে জেড ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোর। তবে দর পতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকাতেও ছয়টি জেড ক্যাটাগরি ও চারটি এ ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠান জায়গা করে নিয়েছে, যা বাজারে ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারের প্রভাব অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেয়।
খাতভিত্তিক চিত্রে দেখা গেছে, প্রকৌশল ও ওষুধ খাতে দরপতনের ধারা অব্যাহত থাকলেও ব্যাংক খাত ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছে। তালিকাভুক্ত ২১টি খাতের মধ্যে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ১৬টি খাতে, যা বাজারে সামগ্রিকভাবে সতর্ক অবস্থানকে তুলে ধরে।
অন্যদিকে পুঁজিবাজারের হিসাব রক্ষাকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, গেল সপ্তাহে শেয়ারশূন্য বিও হিসাবের সংখ্যা কমেছে ৯২৩টি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাজারে কিছু নতুন বা পুরনো বিনিয়োগকারীর সক্রিয়তার ইঙ্গিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে সপ্তাহজুড়ে সূচক ও মূলধনে ইতিবাচক পরিবর্তন থাকলেও খাতভিত্তিক দুর্বলতা ও জেড ক্যাটাগরির আধিপত্য বিনিয়োগকারীদের জন্য এখনো সতর্ক থাকার বার্তা দিচ্ছে।

