অফডক ভিত্তিক এয়ার কার্গো সেবা চালু না থাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে একদিকে পণ্য খালাসে সময় বাড়ছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা।
সাধারণত বন্দরের ওপর চাপ কমানো এবং আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম দ্রুত ও সহজ করতে বন্দর এলাকার বাইরে নির্ধারিত স্থানে পণ্য লোড ও আনলোডসহ কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এই ব্যবস্থাটি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো বা অফডক নামে পরিচিত। চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে এই সুবিধা থাকলেও ঢাকা বিমানবন্দরে এখনো তা চালু হয়নি।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই অফডক ভিত্তিক এয়ার কার্গো সেবা চালুর দাবি জোরালো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আকাশপথে আমদানি করা পণ্য দ্রুত সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দুই মাস পেরিয়ে গেলেও কার্যক্রম এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বিমানবন্দরের ভেতরে পণ্য দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি ফ্লাইট থেকে পণ্য নামাতে এবং হ্যান্ডেলিং করতে অতিরিক্ত সময় নেওয়ায় পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় জট তৈরি হচ্ছে।
শিল্প মালিকদের সংগঠনগুলোর দাবি, ঢাকা বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমানের সক্ষমতা সীমিত। প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় এখানকার এয়ার কার্গো চার্জও অনেক বেশি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, অফডক ভিত্তিক এয়ার কার্গো সেবা চালু হলে একাধিক অপারেটর যুক্ত হবে। এতে সেবার মান বাড়বে এবং সার্ভিস চার্জ কমাতে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। একই সঙ্গে কাস্টমস প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় সময় ও খরচ উভয়ই কমবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও ভারতের মতো বাংলাদেশেও অবডক ভিত্তিক এয়ার কার্গো ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। এতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের জটিলতা কমবে এবং আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। তারা সরকারের কাছে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৬০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এ বিপুল বাণিজ্য কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ঢাকা বিমানবন্দরে আধুনিক ও বিকেন্দ্রীকৃত কার্গো ব্যবস্থার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

