দীর্ঘদিন ধরেই ধারণা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র থেকেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে সেই আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধভাবে অবস্থানরত ভারতীয়দের ফেরত পাঠিয়ে তাদের কঠোর নীতির বাস্তব প্রমাণও দিয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভারতীয় নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র নয়, শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভারতের সংসদেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
লোকসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং জানান, সৌদি আরব থেকে ভারতীয়দের গণহারে ফেরত পাঠানোর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভিসা বা রেসিডেন্সি কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সৌদিতে অবস্থান, বৈধ কাজের অনুমতি ছাড়া শ্রমে যুক্ত থাকা, শ্রম আইন লঙ্ঘন, নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হওয়া।
রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে রেকর্ড সংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২১ সালে ৮৮৭ জন, ২০২২ সালে ১০ হাজার ২৭৭ জন, ২০২৩ সালে ১১ হাজার ৪৮৬ জন, ২০২৪ সালে ৯ হাজার ২০৬ জন এবং ২০২৫ সালের এ পর্যন্ত ৭০৯ জন ভারতীয় নাগরিককে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
শুধু সৌদি আরব নয়, বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া রয়েছে। মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রায় দেড় হাজার অবৈধ অভিবাসীকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শ্রম আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ির কারণেই এই বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার আওতায় শ্রমবাজার সংস্কার এবং অবৈধ অভিবাসন দমনে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরব ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের এপ্রিলে ভারত পাকিস্তান উত্তেজনার সময় সৌদি আরব মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয় এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানায়। যদিও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে রিয়াদ আলোচনার জন্ম দেয়। পরে সৌদি আরব স্পষ্ট করে জানায়, সেই চুক্তি ভারতের বিরুদ্ধে নয় এবং তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ভারত নয়।
সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান বলছে, অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে ভারতীয়দের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র নয়, বর্তমানে সৌদি আরবই রয়েছে শীর্ষ অবস্থানে। এই বাস্তবতা ভারতীয় অভিবাসন নীতি ও বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।

