জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ঘোনাপাড়া সীমান্ত এলাকায় আবারো কাটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবি ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। টানা তিন দিন ধরে সীমান্তের একাধিক পিলারের কাছে কাটাতার বসানোর চেষ্টা করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, গত পরশুদিন থেকে ভারতের বিএসএফ সদস্যরা ২৮১ নম্বর পিলারের ৪৭, ৪৮ ও ৪৯ নম্বর সাব পিলার এলাকাজুড়ে কাটাতার স্থাপনের কাজ শুরু করে। শনিবার সকালে তারা আবারো ৪৭ নম্বর সাব পিলারের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক সীমারেখা ঘেঁষে কাটাতার বসানোর চেষ্টা করলে উত্তেজনা তীব্র হয়।
এর আগেও এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখা হয়। তবে শনিবার সকালে পুনরায় কাটাতার বসানোর চেষ্টা শুরু করায় বিজিবি ও বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিজিবির জয়পুরহাট ২০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মেহেদী ইমরান হোসেন জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, কাটাতার নির্মাণ সংক্রান্ত তিন দিনের উত্তেজনার প্রেক্ষিতে আগামীকাল দুপুর ১টায় অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে কেন নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বারবার কাটাতার বসানো হচ্ছে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সীমান্তের একেবারে কাছাকাছি কাটাতার বসানো হলে কৃষকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। তারা জানান, জমিতে কাজ করতে গেলে বিএসএফ বাধা দেয় এবং অতীতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয়রা আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক সীমারেখা মেনে সীমান্তের ভেতরে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে বেড়া স্থাপন করা হলে এ ধরনের প্রাণঘাতী ঝুঁকি কমবে। কিন্তু সীমান্ত ঘেঁষে কাটাতার বসানো হলে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা দুটোই হুমকির মুখে পড়ে।
এদিকে বিজিবি জানায়, সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি ঘোনাপাড়া সীমান্তে কাটাতার ইস্যু নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। আসন্ন পতাকা বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সীমান্তবাসী ও সংশ্লিষ্ট মহল।

