অবশেষে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা আট আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় জড়িত দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরা এলাকা থেকে তাদের আটক করেছে সেখানকার পুলিশ। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম রোববার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হাদি হত্যা মামলার মূল ঘাতক ফয়সালসহ কয়েকজন আসামি ঘটনার পরপরই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। তারা অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে আত্মগোপন করে।
গ্রেপ্তার হওয়া দুই সহযোগীর নাম পুত্তি ও স্বামী। তারা মেঘালয়ে পালিয়ে যাওয়া আসামিদের আশ্রয় ও পরিবহনে সহায়তা করেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিএমপি জানায়, হত্যাকাণ্ডটি ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগেই এই হত্যার ছক কষা হয়। ঘটনার দিন শুটার ফয়সাল ও আলমগীর শেখ রাজধানী থেকে সিএনজি করে আমিনবাজার যান। সেখান থেকে গাড়িতে কালামপুর এবং পরে ময়মনসিংহ সীমান্তে পৌঁছান। সীমান্তে ফিলিপ ও সঞ্জয় নামের দুই ব্যক্তি তাদের অবৈধভাবে ভারতে পার করে দেয়।
সীমান্ত পার হওয়ার পর ফয়সাল ও আলমগীরকে মেঘালয়ের পুত্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পুত্তি ট্যাক্সিচালক স্বামীর মাধ্যমে তাদের তুরা শহরে নিয়ে যায়।
এ পর্যন্ত এই মামলায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যেই চার্জশিট দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সব নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিক তদন্তে এটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে।
এদিকে আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক উভয় প্রক্রিয়ায় আসামিদের ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, আগামী ১০ দিনের মধ্যে হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। এই সরকারের আমলেই বিচার সম্পন্ন হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

