ডিসেম্বর মাসের প্রথম ২৭ দিনেই দেশে বৈধ পথে প্রবাসী আয় এসেছে ২৭৫ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে এমন চিত্র উঠে এসেছে। গেল বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ২৪০ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ৫৭৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৩৫৪ কোটি ডলার। সে হিসাবে বছর ব্যবধানে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবাসী আয় বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো হুন্ডি নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার ডিজিটাল সুবিধা বৃদ্ধি। একই সঙ্গে প্রবাসীদের আস্থাও আগের তুলনায় বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসেই বাজার থেকে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বাজার থেকে কেনা ডলারের পরিমাণ তিন বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় কিছুটা স্বস্তি এসেছে। তবে আমদানি ব্যয়, জ্বালানি খরচ এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপের কারণে বাজারে ডলারের চাহিদা এখনো রয়েছে। সে কারণেই প্রয়োজন অনুযায়ী বাজার থেকে ডলার কিনে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত। রেমিটেন্স বাড়লে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়, অন্যদিকে টাকার উপর চাপ কমে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হয়।
সব মিলিয়ে ডিসেম্বর মাসে রেমিটেন্সের এই উর্ধ্বগতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার বাজার ব্যবস্থাপনা দেশের বৈদেশিক লেনদেনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

