দেশে উদ্ধার হওয়া একটি বিদেশি পিস্তল ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি পরিত্যক্ত বা অচল নয় বরং সম্পূর্ণ কার্যক্ষম। ফরেনসিক পরীক্ষায় উঠে এসেছে, এটি একটি জার্মান প্রযুক্তির আধুনিক পিস্তল, যা সাধারণত স্থানীয় অপরাধে খুব একটা দেখা যায় না।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্রটি উদ্ধারের পর ফরেনসিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এতে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ছিল এপি অ্যামুনিশন এবং ম্যাগাজিন ও ফায়ারিং প্যাটার্ন ছিল একই ধরনের। অর্থাৎ এটি কোনো এলোমেলো বা পুরনো অস্ত্র নয়, বরং সুসংগঠিত উৎস থেকে আসা একটি আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ছোটবেলা থেকে দেশে সাধারণত ফাইভ স্টার বা দেশীয় অস্ত্র দেখা গেলেও এই ধরনের জার্মান পিস্তল একেবারেই ভিন্ন। থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র হলেও সেটি পুরনো মডেলের হতো। কিন্তু উদ্ধার হওয়া এই অস্ত্রের সঙ্গে স্থানীয় অস্ত্রের কোনো মিল নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ত্রটির ক্যালিবার ৭.৬২ বাই ১৭ মিলিমিটার এবং এটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি। এমন অস্ত্র যদি অপরাধী চক্রের হাতে যায়, তাহলে তা প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ এটি নির্ভরযোগ্য, দ্রুত ফায়ার সক্ষম এবং সহজে বহনযোগ্য।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সীমান্ত দিয়ে সাধারণত যে অস্ত্র আসে, সেগুলো দক্ষিণ এশিয়ার উৎপাদিত হয়। কিন্তু এই অস্ত্র সরাসরি জার্মান প্রযুক্তির হওয়ায় এর চোরাচালান পথ নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, এটি কোনো আন্তর্জাতিক অস্ত্র চোরাচালান চক্রের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, অস্ত্রটি এমন একটি এলাকায় পাওয়া গেছে যেখানে সাধারণত এ ধরনের অস্ত্র থাকার কথা নয়। বিষয়টি স্থানীয় অপরাধের চেয়ে অনেক বড় নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পুলিশ বলছে, অস্ত্রটির উৎস, কারা এটি ব্যবহার করেছে এবং কী উদ্দেশ্যে দেশে আনা হয়েছে তা জানতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তাও নেওয়া হতে পারে।

