জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার শেষ দিন আজ। শেষ দিনে দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সকাল থেকেই লক্ষ্য করা গেছে বাড়তি তৎপরতা। যদিও অনেক এলাকায় সরাসরি প্রার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল, তবে কর্মী সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সকাল থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে প্রার্থীদের কর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেলেও দুপুর পর্যন্ত সরাসরি কোনো হেভিওয়েট প্রার্থীকে আসতে দেখা যায়নি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো ধরনের শোডাউন বা স্লোগান দেওয়া হয়নি। চট্টগ্রামের ১০টি সংসদীয় আসনের মনোনয়ন কার্যক্রম এই কার্যালয় থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।
একই চিত্র দেখা গেছে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়েও। বিকেল পর্যন্ত সেখানে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর কর্মী সমর্থক অপেক্ষায় থাকলেও মনোনয়ন দাখিলের সংখ্যা ছিল সীমিত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে।
খুলনায় সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাসহ একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মনোনয়ন দাখিলের পর কয়েকজন প্রার্থী গণমাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে মন্তব্য করেন। খুলনায় এখন পর্যন্ত একাধিক আসনে মনোনয়ন জমা পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
রাজশাহীতেও শেষ দিনে মনোনয়ন দাখিল ঘিরে তৎপরতা বেড়েছে। ছয়টি আসনে ইতোমধ্যে ৪৪ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। শেষ দিনে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়ছে, তবে এখন পর্যন্ত বড় কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।
ঝিনাইদহে চারটি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিএনপি ও শরিক দলের প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও মনোনয়ন জমা দিচ্ছেন। কিছু এলাকায় দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের আভাস পাওয়া গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সব মিলিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে প্রশাসনিক কার্যালয়গুলো ছিল সরব ও সতর্ক। বিকেল পাঁচটার পর চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হবে কতজন প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকছেন।

